Saturday, 20 July 2013

সর্বহারা - কাজী নজরুল ইসলাম

সর্বহারা


ব্যথার সাতার-পানি-ঘেরা 
চোরাবালির চর, 
ওরে পাগল! কে বেঁধেছিস 
সেই চরে তোর ঘর? 
শূন্যে তড়িৎ দেয় ইশারা, 
হাট তুলে দে সর্বহারা, 
মেঘ-জননীর অশ্রুধারা 
ঝ’রছে মাথার’ পর, 
দাঁড়িয়ে দূরে ডাকছে মাটি 
দুলিয়ে তরু-কর।। 

কন্যারা তোর বন্যাধারায় 
কাঁদছে উতরোল, 
ডাক দিয়েছে তাদের আজি 
সাগর-মায়ের কোল। 
নায়ের মাঝি! নায়ের মাঝি! 
পাল তু’লে তুই দে রে আজি 
তুরঙ্গ ঐ তুফান-তাজী 
তরঙ্গে খায় দোল। 
নায়ের মাঝি! আর কেন ভাই? 
মায়ার নোঙর তোল্‌। 

ভাঙন-ভরা ভাঙনে তোর 
যায় রে বেলা যায়। 
মাঝি রে! দেখ্‌ কুরঙ্গী তোর 
কূলের পানে চায়। 
যায় চ’লে ঐ সাথের সাথী 
ঘনায় গহন শাঙন-রাতি 
মাদুর-ভরা কাঁদন পাতি’ 
ঘুমুস্‌ নে আর, হায়! 
ঐ কাঁদনের বাঁধন ছেঁড়া 
এতই কি রে দায়? 

হীরা-মানিক চাসনি ক’ তুই, 
চাস্‌নি ত সাত ক্রোর, 
একটি ক্ষুদ্র মৃৎপাত্র- 
ভরা অভাব তোর, 
চাইলি রে ঘুম শ্রানি–হরা 
একটি ছিন্ন মাদুর-ভরা, 
একটি প্রদীপ-আলো-করা 
একটু-কুটীর-দোর। 
আস্‌ল মৃত্যু আস্‌ল জরা, 
আস্‌ল সিঁদেল-চোর। 

মাঝি রে তোর নাও ভাসিয়ে 
মাটির বুকে চল্‌! 
শক্তমাটির ঘায়ে হউক 
রক্ত পদতল। 
প্রলয়-পথিক চ’ল্‌বি ফিরি 
দ’লবি পাহাড়-কানন-গিরি! 
হাঁকছে বাদল, ঘিরি’ ঘিরি’ 
নাচছে সিন্ধুজল। 
চল্‌ রে জলের যাত্রী এবার 
মাটির বুকে চল্‌ ।।

0 comments:

Post a Comment